‘৩৭বছর যৌন সম্পর্ক না করায় আমার মন খারাপ থাকতো’

0
65

দৈনিক আলাপ ওয়েবডেস্ক:‌ যোসেফ নামে এক ব্যক্তি নিজের জীবনের গল্প বলেছেন বিবিসির কাছে। তিনি বলছিলেন-ধরে নেয়া হয় বেশিরভাগ মানুষ তাদের কৈশরের শেষ দিকে শারীরিক সম্পর্ক করে, তবে সেটা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

যোসেফ তাদের মধ্যে একজন যিনি তার ৩৭ বছর বয়স পর্যন্ত কোন শারীরিক সম্পর্কে যেতে পারেননি বলে তার মধ্যে লজ্জা এবং চরম হতাশা কাজ করতো। তিনি নিজের মুখের তার কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

“আমি আমার ৩৭ বছর বয়স পর্যন্ত ভার্জিন ছিলাম। আমার কোন ধারণা ছিল এটা কতটা অস্বাভাবিক কিন্তু আমি ধারণা করতে পারলাম এটা একটা লজ্জার বিষয় এবং আমি অনুভব করলাম আমি যেন কলঙ্কিত” বলছিলেন যোসেফ।

তিনি ছিলেন ভয়ংকর লাজুক প্রকৃতির। কিন্তু একাকী ছিলেন না।

“আমার সব সময় বন্ধু ছিল কিন্তু সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আমি কখনোই অন্তরঙ্গ কোন সম্পর্কে নিয়ে যেতে পারিনি। এর মধ্যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরু করলাম আর আমার ব্যক্তিত্বের ধরণ যেন নির্দিষ্ট হয়ে গেল। সবাই আশায় করতো আমি কোন সম্পর্ক করতে পারবো না।”

তিনি বলেন, এটা ঘটেছিল আত্মমর্যাদা বোধের অভাবে এবং আমার আরো গভীরভাবে মনে হত, মানুষ তাকে আকর্ষণীয় ভাবে না।

তার বয়াণে- আমি কখনো বিষয়টি নিয়ে আমার বন্ধুদের সাথে কথা বলতাম না তারাও আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি। যদি তারা কখনো কিছু জানতে চাইতো আমি ভীষণ আত্মপক্ষ সমর্থন করতাম কারণ ততদিনে আমার ভিতরে এই নিয়ে একটা লজ্জা কাজ করা শুরু করেছে।

অনেক পরে তার সম্পর্ক হয় একটি মেয়ের সাথে এবং তিনি বিয়ে করেন তবে সেটার জন্য চিকিতসকের পরামর্শ নিতে হয়েছিল তাকে
তিনি আরো বলেন, এটা হয়তো ঠিক না যে, সমাজ একটা মানুষকে বিচার করে যৌন সম্পর্ক করেছে কি করেনি সেটার উপর ।

যদি আপনার মনে থাকে ফ্রানকি ভ্যালি সেই গানটি কথা ‘ওহ হোয়াট অ্যা নাইট’ তাহলে আপনার মনে হবে মেয়েটা একটা বালককে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাকে একটা পুরুষে পরিণত করেছিল। আমার বেশির ভাগ বন্ধুর মেয়েবন্ধু ছিল। আমি পাশ থেকে দেখতাম কিভাবে তারা সম্পর্ক শুরু করলো এবং পরে বিয়ে অব্দি গড়ালো।

এটা আমার আত্ম মর্যাদাকে ক্ষয় করে দিত। আমি ছিলাম একাকী এবং হতাশাগ্রস্ত যদিও আমি সেই সময় এটা টের পাইনি।

এটা হতে পারে কোন শারীরিক সম্পর্ক না থাকার ফলে কিন্তু এটা যথেষ্ট পরিমাণ অন্তরঙ্গ না হওয়ার কারণেও ঘটতো।

এখন আমি যখন ১৫/২০ বছর পিছনে ফিরে তাকাই তখন দেখি আমাকে আমার পরিবারের ঘনিষ্ঠ-জনরা ছাড়া কেও আমাকে স্পর্শ করেনি।

সেটা ছিল আমার বাবা-মা এবং বোনেরা। এছাড়া কোন অন্তরঙ্গ শারীরিক স্পর্শ অনুপস্থিত ছিল। সুতরাং এটা শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কই নয়।

জোসেফ হতাশা কাটাতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং কাউন্সেলিং নেন। এর পর থেকেই তার জীবনে পরিবর্তন আসতে থাকে।

তিনি একটা মেয়েকে ডেট এ নিয়ে যান, তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। তারা বিয়েও করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মেয়েটি তিন বছর আগে মারা যান। জোসেফ এর বয়স এখন ৬০, তিনি এখন বিপত্নীক।
সূত্র বিবিসি বাংলা ।

LEAVE A REPLY